আমি কীভাবে আমার মস্তিষ্ককে আরও তীক্ষ্ণ, স্মার্ট এবং বিদ্যুতকে দ্রুততর করতে পারি?

আমাদের জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত আমাদের মস্তিষ্ক সর্বদা কাজ করে। আমরা যখন ঘুমাচ্ছি তখনও এটি কাজ করে। এই কারণেই আমরা ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন দেখি। আমাদের মস্তিষ্ককে প্রতিনিয়ত সক্রিয় এবং তীক্ষ্ণ করতে আমরা এমন কিছু কাজ করতে পারি, যেগুলো খুবই সহজ, একেবারে বিনামূল্যে এবং এর উপকারিতা হাজার হাজার।

আপনার মস্তিষ্ক তীক্ষ্ণ করার উপায়-
আপনার মস্তিষ্ককে তীক্ষ্ণ করার জন্য আপনি যে ব্যবস্থাগুলি গ্রহণ করতে পারেন এবং কীভাবে এই ব্যবস্থাগুলি আপনার মস্তিষ্কে কাজ করে সে সম্পর্কে জানুন, তার তথ্য নীচে দেওয়া হল।
ধ্যান করুন
ব্যায়াম করা
উন্নত ডায়েট
বাম হাতের ব্যবহার বাড়ান
টেট্রিস খেলা
ভালো ঘুম
সকালে ঘুম থেকে ওঠা

এই প্রতিকার কিভাবে কাজ করে?
এখানে আপনাকে যে ব্যবস্থাগুলি দেওয়া হয়েছে, সেগুলি সমস্ত মস্তিষ্ককে বিভিন্ন উপায়ে প্রভাবিত করে এবং এর বিভিন্ন অংশকে সক্রিয় থাকতে সাহায্য করে। এই সমস্ত বিষয়ের উপর বিস্তারিতভাবে বিভিন্ন বইতে ব্যাখা করা রয়েছে। সবকিছু বলা সম্ভব নয় তবে মস্তিষ্কের উপর করা বিভিন্ন গবেষণায় এই সমস্ত ব্যবস্থা কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
১) ধ্যান-
মেডিটেশন হল মস্তিষ্ককে সক্রিয় ও তীক্ষ্ণ রাখার একটি বহু পুরনো প্রতিকার। আমাদের ঋষি ও জ্ঞানীরা সর্বদা ধ্যান করতেন। এই কারণেই তিনি গণনায় অত্যন্ত পারদর্শী ছিলেন এবং বড় বড় লেখা মৌখিকভাবে মনে রাখতেন। যদি আমরা বিজ্ঞানের ভিত্তিতে কথা বলি, তাহলে ধ্যানের মাধ্যমে মস্তিষ্ক ভালো পরিমাণে নিউরন তৈরি করতে সক্ষম হয়।

২) জগিং-
জগিং শরীরকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। এটি মস্তিষ্ককে জড়িত করার পাশাপাশি পুরো শরীরকে একই সঙ্গে সচল রাখে। এটির সঙ্গে একটি দ্রুত হাঁটুন এবং দড়ি লাফুন। এই সমস্ত শারীরিক কার্যকলাপ শরীরকে শক্তিশালী এবং মস্তিষ্ককে তীক্ষ্ণ করে তোলে।

৩) ডায়েট-
মস্তিষ্ককে তীক্ষ্ণ রাখতে সবসময় মাথায় রাখুন সঠিক পরিমাণে প্রোটিন এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড আপনার খাবারে। সঙ্গে ভিটামিন-ডি ও ক্যালসিয়াম। মস্তিষ্ক সুস্থ থাকতে এবং সঠিকভাবে কাজ করার জন্য এই সমস্ত জিনিসগুলি প্রয়োজনীয়।

৪) বাম হাতের ব্যবহার-
আমরা সবাই আমাদের বেশিরভাগ কাজ করতে ডান হাত বেশি ব্যবহার করি। কিন্তু অনেক গবেষণায় এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, যারা বাম হাতের পাশাপাশি ডান হাত সমানভাবে ব্যবহার করেন, তাদের মস্তিষ্ক অন্য মানুষের চেয়ে বেশি তীক্ষ্ণ এবং স্মার্ট সিদ্ধান্ত নেয়।

৫) টেট্রিস গেম-
আপনি যখন টেট্রিস খেলেন, ব্লক যোগ করার খেলা, এটি মস্তিষ্কে উপস্থিত ধূসর পদার্থকে বাড়িয়ে দেয়। এই গ্রে ম্যাটার জিনিস মনে রাখতে সাহায্য করে। এভাবে ব্লক খেলে স্মৃতিশক্তি বাড়ে এবং ভালো স্মৃতিশক্তি ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

৬) একটি ছোট ন্যাপ-
যখনই আপনি দিনের বেলা ক্লান্ত বোধ করেন, আপনাকে অবশ্যই ১৫ থেকে ২০ মিনিটের ঘুমোতে হবে। এটি স্মৃতিশক্তিও উন্নত করে এবং একজন ব্যক্তির তুলনামূলক অধ্যয়ন করার ক্ষমতা বাড়ায়। অর্থাৎ, যখনই আপনাকে একটি স্মার্ট এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে, প্রথমে আপনাকে পরিস্থিতি যাচাই করতে হবে যে কী করা সঠিক হবে। এটাই গণনা শক্তি, দিনের বেলা ঘুমানোর অভ্যাস এই শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

৭) তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠা-
সকালে বা সূর্যোদয়ের আগে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন। এই দুটি সময়ই দিন শুরু করার জন্য সেরা। এই সময় ঘুম থেকে ওঠার ফলে মস্তিষ্কে হ্যাপি হরমোন ও বুদ্ধিমত্তার হরমোনের ক্ষরণ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। তাই সকালে ঘুম থেকে ওঠা আপনাকে আরও শান্ত, বুদ্ধিমান এবং সুখী করে তোলে। এছাড়াও আপনাকে স্ট্রেস থেকে দূরে রাখে।

১। আপনার বিপরীত হাত মাঝে মাঝে ব্যবহার করুন। যেমন আপনি যদি কাজ করার জন্য সবসময় ডান হাত ব্যবহার করেন তবে মাঝে মাঝে বাম হাত করুন। আবার আপনি যদি নিয়মিত কাজের জন্য বাম হাত ব্যবহার করেন তবে মাঝে মাঝে ডান হাত ব্যবহার করুন। আপনি বিপরীত হাতে দাঁত ব্রাশ, বা কাগজে কিছু লাইন লিখতে পারেন।

২। নতুন নতুন কিছু পরার অভ্যাস করুন।

৩। প্রোগ্রামিং আপনার মস্তিষ্ক এর একটি গ্রে স্তরকে বৃদ্ধি করতে পারে। ফলে আপনার মস্তিষ্ক থাকবে তীক্ষ্ণ ও আপনার মন থাকবে সচল। জাবা, পাইথন দিয়ে প্রাথমিকভাবে শুরু করতে পারেন।

৪। আপনার শরীর গঠনের জন্য একটা পরিকল্পনা করেন। ভালো মন সুগঠিত শরীরে বসবাস করে।

৫। টেড টক( TeDTalk) শুনতে ও দেখতে পারেন। এটা চিন্তা করার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

৬। রুবিক কিউব সমাধান করার চেষ্টা করুন এটি আপনার মস্তিষ্ক এর নিউরন কে সজাগ করবে এবং আপনার মস্তিষ্ককের চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি করবে।

৭। পরিমাণ মতো কফি পান করুন কিন্তু বেশি পরিমাণ গ্রহণ করবেন না।

৮। দাবা এর মতো অন্যান্য মস্তিষ্ক বিষয়ক খেলা খেলবেন।

৯। আপনার সকালের নাস্তার মাঝে সবুজ শাকসবজি, শুকনা ফলমূল, ডিম এগুলো গ্রহণ করুন। রাতে দুধ গ্রহণ করুন। আপনার নিয়মিত খাবারের মাঝে ওমেগা ৩, মাছ, নারিকেল, ও জলপায় রাখুন।

১০। প্রতিদিন ৮ গ্লাস এর মতো পানি পান করুন। কিন্তু অতিরিক্ত পানি পান করবেন না। অনেকেই বেশি পরিমাণ পানি পান করাকে ভালো মনে করে কিন্তু একটি ভুল ধারণা । প্রতিদিন কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমান।